Previous
অনেক অনেক দিন আগের কথা।   এক দেশে ছিল এক সওদাগর।   সওদাগর দেশে-বিদেশে বাণিজ্য করে বেড়াত।   একদিন সওদাগর বাণিজ্য করতে রওনা হল।
কিছু  দূর গিয়েই তারা পথ হারিয়ে ফেলে।   সওদাগর নৌকার গলুইয়ে গিয়ে দাঁড়ায়।   দূরে তাকিয়ে পথ চেনার চেষ্টা করে।
হঠাৎ তার চোখে পড়ে ছোট একটা মাছ।   মাছটা নৌকার আগে আগে ছুটছে।   মাছটাকে দেখে বেশ অবাক হয় সওদাগর।   কী ব্যাপার! মাছটা তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
চলতে চলতে সওদাগর একটা ঘর দেখতে পায়।   ঘরের কাছে গিয়ে নৌকা থামায়।   এক জেলের ঘর।
জেলের ছিল একটা পোষা বক।   বকটা এগিয়ে যায় নৌকার কাছে।   ছোট মাছটাকে দেখেই খেয়ে ফেলল।   সওদাগরের খুব রাগ হয়।   এমন উপকারী বন্ধুকে কেউ খায়?
সে তীর ছুঁড়ে মেরে ফেলল বকটাকে।   সাথে সাথে ছুটে এল জেলের বউ।   ছুটে এল গাঁয়ের লোক।   তারা সওদাগরকে আটক করে রাজার কাছে বিচার চায়।
রাজার সেপাইরা সওদাগরকে ধরে নিয়ে যায় রাজার কাছে ।
রাজা সওদাগরকে বললেন, কী করেছ তুমি? সওদাগর বলল- হুজুর ! আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম।   মাছটা আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছে।   সেই মাছটাকে জেলেনির বক খেয়ে ফেলেছে।   সে জন্য আমি বকটাকে মেরেছি হুজুর।
এরপর রাজা জেলেনির কথা জানতে চাইলেন।   জেলেনি বলে- বকটাকে আমি ছোট থেকে পালন করছি।   আদর করেছি।   হুজুর! বকটা ছিল আমার খুবই প্রিয়।   অথচ সেই বকটাকে সওদাগর মেরে ফেলেছে।   আমি এর বিচার চাই।   এই বলে জেলেনি কাঁদতে শুরু করে।   জেলেও কাঁদতে থাকে।
দুজনের কথা শুনে রাজা খুব ভাবলেন।   ভেবে বললেন- মাছ হোক আর বক হোক, কোনটাই মারা ঠিক নয়।   তবে বক মাছ খেতেই পারে।   বকটাকে মেরে সওদাগর ঠিক করনি।   তবুও তুমি আমার দেশের মেহমান।   তোমাকে কঠিন কোন শাস্তি দেবনা।   তবে, আজই তুমি আমার রাজ্য ছেড়ে চলে যাবে।
জেলে আর জেলেনি রাজার বিচারে খুশি।   তারা রাজাকে সালাম জানিয়ে বাড়িতে ফিরে গেল।   সওদাগর নৌকা ভাসিয়ে অন্য দেশের দিকে পাড়ি দিল।
Next