Previous
ছেলেটির নাম সুমন।   সুমন মা বাবার একমাত্র সন্তান।   তাই তার খুব আদর।   সবাই তাকে ডাকে আদুরে সুমন বলে।   ছয় বছর বয়সে সুমনকে পাঠশালায় ভর্তি করানো হয়।   তবে পড়াশোনায় তার তেমন মন নেই।   তাই সুমনের মা-বাবার মনে ভারি দুঃখ।
সুমনের মা একদিন রাগ করে তার খাবার বন্ধ করে দেয়।   সুমন খেতে বসে দেখে তার জন্য কোন খাবার নেই।   মা বলে, তুমি লেখাপড়া কর না।   তাই তোমাকে কোন খাবার দেয়া হবে না।   অপমান আর দুঃখে সুমন বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
পথে যেতে যেতে সুমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।   পাশেই আছে এক বটগাছ।   সুমন বটগাছের নিচে বসে।   হঠাৎ তার মায়ের কথা মনে পড়ে।   সে ভাবে, মা কেন তাকে এমন সাজা দেয়? ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পড়ে।
সুমন স্বপ্ন দেখে, একটি লোক এসে তার সামনে দাঁড়ায়।   আর বলে, আমি খাদ্যরাজ।   সবাইকে খাবার দিয়ে থাকি।   সুমন বলে, তুমি কেমন খাদ্যরাজ? আমার মা যখন খাবার দিল না, তুমি তখন কোথায় ছিলে? খাদ্যরাজ বলে, তোমার দোষেই তুমি এই সাজা পেয়েছ।   তারপর সে মিলিয়ে যায়।
এবার আসে বিদ্যারাজ।   সে সুমনকে বলে, সবাইকে আমি বিদ্যা দান করি।   সুমন বলে, তুমি কেমন বিদ্যারাজ, আমাকে কোন বিদ্যা দিলে না? বিদ্যারাজ বলে, তোমার দোষেই তুমি বিদ্যা পাওনি।   তারপর সেও মিলিয়ে যায়।
এবার আসে কর্মরাজ।   বলে, আমি সবাইকে কাজ দেই।   সুমন বলে, তুমি কেমন কর্মরাজ, আমাকে কোন কাজ দিলে না? কর্মরাজ বলে, তুমি তো লেখাপড়া করনি।   তাই তোমাকে কোন কাজ দেয়া যাবে না।   আগে লেখাপড়া শেষ কর, তারপর কাজ পাবে।   এই বলে সেও মিলিয়ে যায়।
সুমনের ঘুম ভেজ্ঞে যায়। স্বপ্নের কথা ভেবে , সে নিজের ভুল বুঝতে পারে।   সে বাড়ি ফিরে যায়।   মন দিয়ে পড়াশোনা করে।   ফলে সে সৎ, পরিশ্রমী আর বুদ্ধিমান মানুষ হয়ে ওঠে।   এই সব গুণের জন্য সবাই তাকে তাদের নেতা বানায়।   আদুরে সুমন এখন সবার প্রিয় নেতা।
Next