Previous
জগার মা’র খুব ইচ্ছে হল ইলিশ মাছ খেতে।   মাছ ধরতে যাওয়ার সময় স্বামীকে বলল আজকের সবচেয়ে বড় মাছটা বাড়ি নিয়ে এসো।   ভাজা করে খাব।
পরিমল স্ত্রীর কথা ভোলেন নি।   সবচেয়ে বড় দুটো ইলিশ রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দিল।
মাছ বিক্রি করতে করতে বেলা গড়িয়ে যায়।   সন্ধ্যায় মাছ দুটো নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা দেয়।   সাত আট মাইলের পথ।   রাত বাড়ার আগেই বাড়ি পৌঁছা যাবে।
আকাশে চাঁদ ছিল না।   পথ-ঘাট সব আঁধারে ঢাকা।   এখানে ওখানে ঝোপঝাড়।   এ সব পেরিয়ে পরিমল হাঁটতে থাকে।   হঠাৎ মনে হয় কে যেন তার পাশে পাশে হাঁটছে।
কেউ কথা বলে না।   কিন্তু নিঃশ্বাস টের পাওয়া যায়।   পরিমল গলা খাকাড়ি দেয়।   কেডা? কেউ কথা বলে না।   আবার ডাকে, চিৎকার করে বলে কেডা?
এবারে মিহি গলায় অচেনা কন্ঠ বলে- আমি।   তোর গামছায় মধ্যে দুইটা মাছ।   আমাকে একটা দে।   নইলে আমি তোর ঘাড় মটকাইয়া খামু।   এই আমি রাস্তা আগলাইয়া খাড়াইলাম।   পারলে আমার পায়ের ফাঁক দিয়া যা।
ভয়ে পরিমলের গলা দিয়ে কথা বের হয় না।   গা ছম ছম করে।   ভাবে, এতো মহাবিপদ।   কায়দা করে ওর কাছ থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।   এবার পরিমল নরম গলায় বলে- মাছতো কাঁচা কেমন করে খাবি? তার চেয়ে আমার বাড়ি চল।   তোকে ভাজা করে খাওয়াবো।
অচেনা কণ্ঠ রাজি হয়।   সে পথ ছেড়ে দাঁড়ায়।   বলে, আমার সাথে কিন্তু চালাকি করবি না।   যদি করিস আমি তোদের সবাইকে আস্তা গিল্লা খামু।   মনে থাকে যেন।
বাড়ি গিয়ে পরিমল বউকে সব জানায়।   বউ বলে ঠিক আছে।   তুমি কিছু ভেবো না।   আমি সব ব্যবস্থা করছি।
জগার মা কড়াইয়ে ইলিশ মাছ ভাজা করছে।
মাছ ভাজার গন্ধে অচেনা কণ্ঠের জিভে পানি আসে।   জানালার ওপাশ থেকে তাড়া দেয়।   কই, তাড়াতাড়ি কর।   আর দেরি সয় না।
এদিকে জগার মা মাছ ভাজার সাথে সাথে চুলোয় লোহার খুন্তি গরম করে।   আগুনের তাপে টকটকে লাল হয় খুন্তি।
জগার মা জানালা দিয়ে একটি একটি মাছের টুকরো দেয়।   অচেনা কন্ঠ মজা করে খায়।   খেতে খেতে দু’জনার মধ্যে ভাব হয়।
অচেনা কন্ঠ মুখ হা করে জগার মা গরম খুন্তি ঢুকিয়ে দেয়।   অচেনা কন্ঠ চিৎকার করে উঠে।
সে রাতে কেউ আর ঘরের বাইরে যায় না।   সকাল বেলা দেখে কি, জানালার পাশে একটা কাক মরে আছে।
Next