Previous
জয়দের বাড়ির পাশে ছোট্ট ডোবা।   ডোবাতে খুব বেশি পানি ছিল না।   একদিন জয় খেলতে খেলতে ডোবার ধারে গিয়ে দাঁড়াল।   হঠাৎ সে দেখল, পানিতে বেশ বড় একটা মাছ আর বড় মাছটার চারিদিক ঘিরে আছে অনেকগুলো ছোট ছোট মাছ।   ছোট মাছগুলো শুধু ঘুরছে আর খলবল করছে।  
জয় ভাবল, খুব মজা করে মাছগুলোকে ধরা যাবে।   তবে বড় মাছটাকে আগে ধরতে হবে।   তারপর ছোট মাছগুলোকে।
কিন্তু একা একা মাছ ধরায় কোনো আনন্দ নেই।   তাই জয় বাড়িতে গেল ছোট বোন দীপাকে ডাকতে।   মাছ ধরার কথা শুনে দীপাও খুব খুশি হলো।   সে একটা ঝুড়ি নিয়ে জয়ের সাথে চলল মাছ ধরতে।   ডোবার কাছে গিয়ে দুজনে বুদ্ধি করল কীভাবে মাছ ধরবে।   জয় ধীরে ধীরে পানিতে নামল।   তারপর বড় মাছটার কাছে গিয়ে ঝুড়িটা পানিতে ডুবিয়ে রাখল।   আর দীপা অন্য পাশ থেকে মাছটাকে তাড়া করতে শুরু করল।
তাড়া খেয়ে মাছটা এদিক ওদিক দৌঁড়াল।   কিন্তু পালাবার রাস্তা না পেয়ে শেষে জয়ের ঝুড়িতে এসেই ঢুকল।   অমনি জয় ঝুড়িটা পানি থেকে তুলে ফেলল।   মাছটা ধরা পড়ল।  
জয় আর দীপা বড় মাছটাকে নিয়ে দৌঁড়ে মায়ের কাছে এলো।   মা দেখলো এটা একটা তেলাপিয়া মাছ।   জয় মাকে ঐ মাছটার বাচ্চাদের কথাও বলল।
মা : জয়, দীপা তোমরা মাছটাকে ধরতে পেরে খুব খুশি হয়েছো তাই না?
জয় আর দীপা : হ্যাঁ মা, খুব খুশি হয়েছি।  
মা: আচ্ছা তোমরা খুশি হলে কার কাছে ছুটে আস ?
দীপা:
কেন মা, তোমার কাছে আসি !
মা : ক্ষিধে পেলে, ঘুম পেলে কার কাছে ছুটে আস ?
জয়:
কেন মা, তোমার কাছে আসি !
মা : আচ্ছা ধর আমি যদি তোমাদের কাছে না থাকতাম, তাহলে কি হতো ?
জয় আর দীপা : আমরা তাহলে খুব কষ্ট পেতাম মা।
সবসময় আমাদের কান্না
পেত।
দীপা : এই যে মা মাছটাকে আমরা ধরে এনেছি এখন ওর বাচ্চাগুলো ক্ষিধে পেলে কার কাছে যাবে ? মায়ের জন্য ওরা বসে বসে কাঁদবে না ?
জয় : হ্যাঁ তাই তো।   ছোট মাছগুলো নিশ্চয়ই এতক্ষণে খুব কাঁদছে !
মা : ঠিক তাই !
জয় : চলো দীপা, আমরা ডোবায় গিয়ে মাছটাকে ছেড়ে দেই।  
দীপা : তাই চলো ভাইয়া !
ওরা ডোবার কাছে এসে বড় মাছটাকে পানিতে ছেড়ে দিল। অমনি ছোট মাছগুলো চারিদিক থেকে ছুটে এসে মা মাছটাকে ঘিরে ধরল আর খলবল করতে লাগল।
জয় আর দীপা দেখল মা মাছটা ‘টক্’ করে একটা শব্দ করল।   সাথে সাথে ছোট মাছগুলো টুপ্ করে পানিতে ডুব দিল।   জয় আর দীপা হেসে উঠল।   তারপর দু’জনে হাত ধরাধরি করে বাড়ির দিকে রওনা হলো।
Next