Previous
ছোট্ট মেয়ে সোহাগী।   ওর মা ছাড়া কেউ নেই সংসারে।   ওদের সংসারে খুব অভাব।
একদিন সোহাগীর মা তুলা রোদে দেয়।   হঠাৎ জোরে বাতাস আসে।   বাতাস তুলা উড়িয়ে নিয়ে যায়।   বাতাসের পেছনে ছোটে সোহাগী।
পথে দেখা হয় এক গাভীর সাথে।   সারাদিন গাভী কোনো ঘাস পায়নি।   সোহাগীকে বলে, এই মেয়ে তুমি আমাকে কিছু ঘাস তুলে দাও না।   সোহাগী গাভীকে অনেক ঘাস তুলে দেয়।
সোহাগী ছুটছে আর ছুটছে।   হঠাৎ দেখা হয় কাঠবিড়ালীর সাথে।   কাঠবিড়ালী সোহাগীকে বলে, এই মেয়ে আমাকে পেয়ারা পেড়ে দাও না।   সোহাগী পেয়ারা পেড়ে দেয়।   পেয়ারা পেয়ে কাঠবিড়ালী তো ভীষণ খুশি।
সোহাগী ছুটছে।   বাতাসে সোহাগীর চুল ওড়ে।   বাতাস ওর ছোট শরীর ছুঁয়ে যায়।   এবার দেখা হয় খরগোশের সাথে।   খরগোশের সাদা রং সোহাগীর খুব প্রিয়।   খরগোশ বলে, এই মেয়ে তুমি কি আমাকে কয়েকটা আম পাতা পেড়ে দেবে? সোহাগী আম পাতা পেড়ে দেয়।
বাতাসের পেছনে ছুটতে ছুটতে সোহাগী বাতাসের বাড়িতে পৌঁছে যায়।   বাতাসকে বলে, আমার মায়ের তুলা ফিরিয়ে দাও।   বাতাস বলে, আগে একটু জিরিয়ে নাও সোনার মেয়ে।   গোসল কর।   খেয়ে নাও।   তারপর তুলা পাবে।   বাতাস তাকে হরেক রকমের খাবার দেয়।   তবে সোহাগীর খাবার দেখেই লোভ হয় না।   পরিমাণ মতো খায়।
এরপর বাতাস সোহাগীকে অনেক পোটলা দেখায়।   বলে, লক্ষ্মী মেয়ে এখান থেকে যে কোনো একটি পোটলা নাও।   সোহাগী ছোট একটি পোটলা নেয়।   তারপর বাড়ির দিকে রওনা দেয়।
বাড়ি ফেরার পথে খরগোশের সাথে দেখা হয়।   খরগোশ সোহাগীকে অনেক আম দেয়।   এরপর দেখা হয় কাঠবিড়ালীর সাথে।   কাঠবিড়ালী তাকে অনেক পেয়ারা দেয়।
এবার সোহাগী আসে গাভীর কাছে।   সোহাগী গাভীকে আদর করলে গাভী ওকে একটি বাছুর দেয়।   সোহাগী আম, পেয়ারা, বাছুর আর পোটলা নিয়ে বাড়ি ফেরে।
এত সব দেখে সোহাগীর মা তো অবাক! সোহাগী মায়ের সামনে পোটলা খোলে।   ছোট তুলার পোটলাটি মোহর ভরা।   মোহর দেখে দুজনের চোখ তো ছানাবড়া।   এত মোহর কী ওরা আর দেখেছে! বাতাসকে মনে মনে ধন্যবাদ দেয় সোহাগী।   তারপর মায়ের সাথে সুখে দিন কাটাতে থাকে।
Next