Previous
এক বুড়িমার তিন ছেলে।   ছেলেদের বউয়েরা খুব হিংসুটে।  তারা শাশুড়ীকে দেখাশোনা করে না।  ঠিকমত খেতে দেয় না।  ছেলেরাও মার খোঁজ খবর নেয় না।  তারা বউদের কথামতো চলে তাই বুড়িমা ভিক্ষা করে।   কোনো মতে তাঁর জীবন চালায়।   এই দেখে গ্রামের লোকেরা খুব অবাক হয়।   একদিন গ্রামের লোকেরা সবাই মিলে সালিশ ডাকে।   বুড়িমার বাড়িতেই সালিশ বসে।
ছেলেদের কাছে বুড়িমার কথা জানতে চায় সালিশের মাতবর।   বড় ছেলে বলে, আমার বউয়ের class="pop">সাথে মা সব সময় ঝগড়া করে।   মেঝ ছেলে বলে, আমার ছেলেকে মা আদর করে না।   ছোট ছেলে বলে, মা আমার বউকে সব সময় বকাঝকা করে।   ছেলেরা বলে, আমরা এসব করতে মাকে নিষেধ করেছি।   তাই রাগ করে মা আমাদের ভাত খায় না।   ভিক্ষা করে।
গ্রামের লোকেরা বুঝে যায় যে, ছেলেরা ঠিক কথা বলেনি।   তাই মুরব্বিরা ঠিক করেন যে ছেলেদের বোঝাতে হবে।   তারা যা করছে তা মোটেও ঠিক কাজ নয়।   তাই সবাই উপায় খুঁজতে থাকে।   একদিন গ্রামের মুরব্বিরা বড় তিনটি কাঁঠাল কিনে বুড়িমার বাড়িতে যায়।   বুড়িমার তিন ছেলেকে ডাকে।   তারা ছেলেরা সামনে এলে মাতবর বলেন, তোমাদের জন্য তিনটি কাঁঠাল এনেছি।   তোমরা তোমাদের গলায় একটি করে কাঁঠাল ঝোলাবে।   তারপর তিনবার গ্রাম ঘুরে আসবে।
ছেলেরা গলায় কাঁঠাল নিয়ে গ্রাম ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে।   কিন্তু কোনো ছেলেই একবারের বেশি গ্রাম ঘুরতে পারে না।   একবার ঘুরে আসতেই তাদের খুব কষ্ট হয়।   মাতবর বলেন, তোমরা একটা কাঁঠাল গলায় ঝুলিয়ে গ্রাম ঘুরতে পারনি।   অথচ তোমাদের মা তোমাদের দশমাস দশদিন পেটে রেখেছেন।   তিনি তোমাদের যত্ন করেছেন।   নিজের খাওয়া থেকে তোমাদের খাইয়েছেন।   একবারও কি তোমরা সে কথা ভেবেছ? উচিত শিক্ষা পেয়ে ছেলেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে।   তারা মায়ের কাছে ক্ষমা চায়।   তারপর থেকে মাকে ভালবাসে এবং আদর যত্ন করে।
Next