Previous
কোন এক গাঁয়ে বাস করে এক বুড়িমা। রাতে সে ঘুমাতে পারে না। ঘুমিয়ে গেলে চোর ঘরে ঢুকে হাঁড়ির সব খাবার খেয়ে ফেলে। বুড়িমা সকালে উঠে মনের দুঃখে কাঁদতে বসে। কেঁদে কেটে মনের দুঃখে বনবাসে চলে যেতে চায়।
বুড়ির আছে এক নাতি। সে পাশের গ্রামে থাকে। নাতি খুব চালাক। একদিন বুড়িমা তাকে চুরির কথা খুলে বলে। সে বুড়িমাকে বলে দেয় রাতে কি করলে চোর আর আসবে না। নাতির কথা শুনে বুড়িমা চোর তাড়ানোর উপায় খুঁজে পায়।
সে নাতির কথা মতো বাজার থেকে একটা শিং মাছ আর একটা বেল কিনে আনে। পাশের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে বেশ অনেকটা গোবর।
রাতের বেলা বুড়িমা ভাতের হাঁড়ির ভেতর অল্প পানি দিয়ে শিং মাছটা রাখে। চুলার কয়লার উপর বেলটা রাখে। আর সবশেষে গোবরগুলো দরজার সামনে ছড়িয়ে দেয়। সব আয়োজন শেষে বুড়িমা ঘুমাতে যায়।
রোজকার মতো রাতে চোর আসে ভাত খাওয়ার লোভে। মজা করে ভাত খাবে বলে হাঁড়িতে হাত দেয়। আর অমনি শিং মাছ তার হাতে কাঁটা ফুটিয়ে দেয়।
চোর ব্যাথায় কুঁকড়ে গিয়ে হাতটা গরম করবে ভেবে চুলার পাশে যায়। চুলায় হাত দেয়া মাত্রই বেলটা ঠাস করে ফেটে তো চৌচির। আর চোরের সারা গায়ে আগুনের ফুলকি ছিটকে পড়ে।
ভয়ে চোর দৌড়ে দরজার দিকে যায়। দরজা খোলা মাত্র পা পড়ে গোবরের ওপরে। অমনি পিছলে পড়ে চিৎপটাং। বাবাগো, মাগো বলে ব্যাথায় কঁকিয়ে ওঠে। তারপরও ধরা পড়ার ভয়ে চোর উঠে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচে।
ঘটনা দেখার জন্য তো বাইরে দাঁড়িয়ে আছে বুড়ির নাতি। ওতো জানতো এমনটাই ঘটবে। তাই এসেছে মজা দেখতে। চোর পালাতে থাকলে সে জোরে জোরে বলতে থাকে, ও দাদী ফিরে চাও, চোরের নাচন দেখে যাও।
Next