Previous
অনেকদিন আগের কথা।   ১৯৭০ সাল।   রমজান মাস।   আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ।   সাগরে জোয়ারের পানি বাড়ছে।
সাগরের কাছেই জেলেপাড়া।   জেলেপাড়ার মানুষেরা ভয় পায়।   এবার বুঝি আর উপায় নাই।   বানের পানিতে ভেসে যাবে সব।
সন্ধ্যা নামে, সাথে সাথে সাগর ফুঁসে ওঠে।   ভাসিয়ে নেয় ঘরবাড়ি, মানুষজন।   কেউ কেউ বাঁচার জন্য গাছপালা ধরতে চায়।
জেলেপাড়ার করিম মাঝি ভেসে যায় জোয়ারের পানিতে।   ভাসতে ভাসতে বাঁচার আশায় গাছে ওঠে।
গাছের ডাল ধরে বসে থাকে করিম মাঝি।   অপেক্ষা করে কখন ভোর হবে।   রাত কেটে যায়।
পরদিন ভোরে দেখে পানি নেমে গেছে।   করিম মাঝি জানে না বাড়ির অবস্থা কী।   জানেনা বউ বাচ্চারা বেঁচে আছে কিনা।   এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে বাড়ির দিকে যায়।
হঠাৎ একটি শিশুর কান্না শোনা যায়।   একটি শিশু মা মা বলে কাঁদছে।   করিম কাছে যায়।   মাটি থেকে শিশুটিকে কোলে তুলে নেয়।
শিশুটির বয়স দেড় বছরের মতো।   নিজের নাম বলতে পারে না।   করিম বুঝতে পারে ওর মাবাবা হয়তো বেঁচে নেই।
শিশুটিকে কোলে নিয়ে করিম মাঝি পাড়ায় ঢোকে।   তার ঘরবাড়ি সব মাটির সাথে মিশে গেছে।
করিমের ছিল এক মেয়ে আর এক ছেলে।   ওদের কোন খোঁজ পায়না।   হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে সে।   শিশুটিকে বুকে চেপে ধরে।   নিজের ছেলেমেয়ে কোথায় হারিয়ে গেল।   এই শিশুটিই তার আপনজন।
বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।   মানুষ আসে সারা দেশ থেকে।   সাহায্য করে, সেবা দেয়।   ঘরবাড়ি বানাবার জন্য টিন দেয়।   করিম মাঝিও পায়।
সাহায্যের টিনে ঘর তৈরী হয়।   জেলেপাড়ার জীবন জেগে ওঠে আবার।   জাল নিয়ে সবাই নদীতে যায়, সাগরে যায়।   এই সাগর নদীর সাথেইতো তাদের জীবন বাঁধা।
করিম মাঝি শিশুটিকে নিয়ে শুরু করে নতুন জীবন।   শিশুটির নাম রাখে মাণিক।   ধীরে ধীরে সে বড় হয়।   জেলেপাড়ার ছেলেদের সাথে খেলা করে।   খেলতে খেলতে জালের সাথেই হয়ে যায় তার মিতালী।
মাণিকও করিম মাঝির সাথে জাল নিয়ে যায় নদীতে।   জাল ফেলে মাছ ধরে।   ধীরে ধীরে মাছ ধরার সব কিছু শিখে ফেলে।   করিম মাঝির দুঃখ ঘুচে যায়।   মাণিকের অতীতের কথা সবাই ভুলে গেছে।   তাকে করিম মাঝির ছেলে মাণিক মাঝি বলে সবাই জানে।
Next