Previous
ভোরে পাখির কিচির মিচির শব্দ শুনে দিপুর ঘুম ভাঙ্গে। নানা রকম পাখির বিচিত্র সব ডাক। বাক্ বাকুম, কা-কা, আরো কতো কী। ঘুম ঘুম চোখে সে আমগাছের নিচে যায়। ভোরের অস্পষ্টালোতে পাখিদের দেখে। সে ভাবে, আহা! কী সুন্দর তাদের ডাক। পাখির স্বর অনুকরণ করে সেও ডাকে—কু-হু, কু-হু, কু-হু।
দিপু দেখে, গাছের ডালে একটি অণ্যরকম পাখি। পাখিটি আকারে ছোট দেখতে কাকের মতো, তবে শরীরের রঙ হালকা নীল। সে ইশারায় পাখিটিকে কাছে ডাকে।
নীল পাখিটি ভয় পেয়ে নড়েচড়ে বসে। এবার দিপু লক্ষ করে, ডালে বসা বাকী পাখি গুলো তাকে তাড়া করছে। দিপু অবাক হয় রাগও করে।
সে ভাবে, পাখি তো পাখির বন্ধু হবে। ওরা কেন তাকে মারতে চাচ্ছে সে একটি ঢিল ছোঁড়ে। এতে কিছুটা ফল হয়। পাখিগুলো আরেকটি ডালে গিয়ে বসে।
ইতমধ্যে তার ছোট বোন নিপা এসেছে। সে বলে, ভাইয়া, ওই দেখ, গাছে কী সুন্দর একটা নীল পাখি এসেছে। কিন্তু অন্য পাখিরা তাকে তাড়া করছে।
নিপা বলে, ওই পাখিকে ধরে আনো না ভাইয়া। আমি পাখিটিকে পুষব। ওকে আদর করবো, বন্ধু বানাব।
তারা দেখে, পাখিটি অন্য ডালে উড়ে যেতে চাচ্ছে। কিন্তু উড়তে না পেরে মাটিতে পড়ে যায়। তারা নীল পাখিকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
এরই মধ্যে সকালের রোদ উঠেছে। মা তাদের জণ্য নাস্তা বানিয়েছেন। নিপা মা কে বলে, দেখ, কী সুন্দর একটা পাখি এনেছি। পাখিটিকে পুষব।
দিপু বলে আমি পাখির সাথে খেলব। মা বলে, এখন পড়তে বস। পরে দেখা যাবে। তারা পাখির পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে।
বিকালে স্কুল থেকে ফিরে নিপা ও দিপু অবাক হয়। তারা দেখে দরজার ওপরে পাখিটি বসে আছে। নিচে একটি বিড়াল তাকে তাড়া করছে। তারা বিড়ালটিকে তাড়িয়ে দেয়। দিপু পাখিটিকে হাতে নেয়। নিপা মাকে একটি খাঁচা আনতে বলে।
রাতে মা বলেন, পাখিটি সারাদিন কিছুই খায়নি। বনের পাখিকে খাঁচায় না পুষে তাকে বনেই থাকতে দাও। দিপু ও নিতা ভাবে, মা ঠিক কথাই বলেছেন। আমরা তো সারাদিন পাখিটিকে দেখে রাখতে পারব না।
পরদিন সকালে তারা পাখিটিকে ছেড়ে দেয়। তারা অবাক হয়ে দেখে, পাখিটি আনন্দে ডানা নাড়ছে। আর তার পাশেই মা পাখিটি তাকে আদর করছে।
Next