Previous
গভীর এক বন।   বনের পাশেই আছে এক টুকরো জমি।   সেই জমিতে ধান চাষ করে এক চাষী।   চাষী প্রতি বছরই প্রচুর ধান ফলায়।
ঐ বনে থাকে অনেক বাঘ।   বাঘগুলো প্রতিবছরই চাষীকে কোন না কোন ঝামেলায় ফেলে।   একবার এমনি এক ঝামেলায় পড়ে চাষী।
চাষী একদিন তার জমিতে কাজ করছে।   এমন সময় বন থেকে বেরিয়ে আসে এক বাঘ।   বাঘ বলে, আমি তোমাকে খাবো।   চাষী বলে, বাঘ ভায়া, ধানগুলো তো পেকে গেছে।   আগে ধানগুলো কাটি, তারপর না হয় আমায় খেও?
চাষীর ধান কাটা প্রায় শেষ।   এমন সময় বাঘ আবার আসে।   বলে, চাষী আজ তোমাকে খাবো।   চাষী বলে, তাতে অসুবিধা আর কি।   আমাকে ধানগুলো মাড়াই করতে দাও।   তারপর না হয় খেও? বাঘ বলে ঠিক আছে, তবে জলদি কর।
চাষী বলে, ভায়া, জলদি করব কীভাবে? ধান মাড়াই করতে তো গরু লাগে।   আমার যে গরু নেই।   বাঘ বলে, ঠিক আছে কাল আমি আর বাঘিনী তোমার ধান মাড়াই করে দেব।   তারপর তোমাকে খাবো।
পরদিন বাঘ আর বাঘিনী আসে।   জমির পাশেই ধান মাড়াই করে দেয়।   ধান মাড়াই শেষ হলে বাঘ বলে, এখন তোমায় খাবো।   চাষী বলে, আমি কি তোমায় নিষেধ করেছি? বরং কাল তোমরা দুজনে আমার বাড়িতে এসো।   ধান থেকে চাল করি, ভাত রাঁধি, এক সাথে খাওয়া দাওয়া করি।  তারপর না হয় খেও।   বাঘ আর বাঘিনী খুশি হয়ে চলে যায়।
কদিন পর বাঘ আর বাঘিনী চাষীর বাড়ি আসে।   চাষী বাঘের ভয়ে দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে।   বাঘ এসে কাউকে দেখতে না পেয়ে বলে, চাষী তুমি কোথায়? চাষী বলে, আমরা খাওয়া-দাওয়া করছি।   তোমরাও খাবে।   দরজার ফাঁক দিয়ে লেজ ঢুকিয়ে দাও।   তোমাদের লেজে খাবার বেঁধে দেই।   তারপর দু’জনে আরাম করে খেও।
বাঘ দরজার ফাঁক দিয়ে লেজ ঢুকিয়ে দেয়।   চাষী অমনি ধারালো দা দিয়ে বাঘের লেজটা কেটে ফেলে।   বাঘ ব্যাথায় দৌড়াতে শুরু করে।   বাঘিনীও তাই দেখে দৌড়ে পালায়।
বাঘ দৌড়াতে দৌড়াতে নদীর কাছে যায়।   কাটা লেজটা নদীর ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখে।   পানিতে ছিল এক কাঁকড়া।  সে খাবার ভেবে বাঘের কাটা লেজে কষে কামড় দেয়।
বোকা বাঘ ভাবে, চাষী বুঝি এখানেও এসেছে।   ভয়ে বাঘ বিড়বিড় করে বলতে থাকে, ডাঙাতেও চাষী, পানিতেও চাষী, মাথায় যতই আঁটি, চাষীর খুবই খাঁটি।   বাঘ ব্যথায় দৌড়াতে থাকে।   দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় বনে চলে আসে।   মনে মনে ভাবে, অনেক শিক্ষা হয়েছে।   আর কখনও মানুষ খাবার লোভ করা যাবে না।
Next