Previous
প্রায় একশ বছর আগের কথা।   তিতাস নদীর পূর্ব পাড়ে ছিলো এক গ্রাম, নাম হরিপুর।   হরিপুরের জমিদার ছিলেন সুভাষ সাহা।   সবিতা ছিলেন তারই বউ।
হরিপুরে ছিলো জমিদার বাড়ি।   জমিদারের হাতিশালে হাতি ছিলো।   ঘোড়াশালে ছিলো ঘোড়া।   পাইক-পেয়াদাও ছিল অনেক।   তবে বাড়ির ভেতরটাতে শুধু সুভাষ আর সবিতা থাকতেন।   এখানে আর কেউ থাকত না।
সুভাষ সাহা জমিদারির কাজে প্রায়ই শহরে যেতেন।   একদিন তিনি শহরে গেলেন।   কাজ শেষ হতে দেরি হয়ে গেল।   তাই রাতে তিনি বাড়ি ফিরলেন না।   পাশের গ্রামে থাকতো এক চোর।   সেও জেনে গেছে জমিদার শহরে, রাতে বাড়ি ফিরবেন না।   চোর ঐ রাতেই জমিদার বাড়ি চুরি করতে গেলো।
চোর সবিতার ঘরে ঢুকে খুঁজে বের করলো আলমারির চাবি।  টাকা, মোহর আর গয়নার থলে ভরতি করতে লাগলো।   গয়না আর টাকার টুংটাং শব্দে সবিতার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।   তিনি বুঝতে পারলেন ঘরের মধ্যে কি হচ্ছে।   কিন্তু কি করবেন তা বুঝতে পারছেন না! বিছানায় শুয়ে সব দেখতে লাগলেন।   আশে পাশে কেউ নেই, ডাকলেও কেউ শুনবে না।   ভাবতে থাকেন, কী করা যায়?
চোরের চুরি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।   এমন সময় বাইরে হাঁটা-চলার আওয়াজ শোনা গেলো।   চোর ভাবলো জমিদার বাবু বুঝি ফিরেছেন।
সবিতা ভাবলেন বোধ হয় পাইক-পেয়াদা এসেছে।   মনে সাহস নিয়ে উঠে বাতি ধরালেন।   বাতির আলোয় দেখলেন, চোর খাটের নিচে লুকিয়ে আছে।
সবিতা চোরকে দেখেও না দেখার ভান করলেন।   এমন সময় ঘরে একদল ডাকাত ঢুকলো।   তারা সবিতার কাছে জানতে চাইলো, জমিদার বাবু কোথায়?
ডাকাতদল ছিলো ভিনদেশী।   তারা জমিদার বাবুকে চিনতো না।   সবিতা তা বুঝে চোরকে দেখিয়ে বলেন, ঐ যে উনি ! ডাকাতদল ভাবলো জমিদার বাবু ভয়ে লুকিয়ে আছেন।   তারা খাটের নিচ থেকে চোরকে বের করে আনলো।   চোরের কাছেই আলমারির চাবি চাইলো।
চোর মুখ খুলল না।   ডাকাতদল তাকে খুব মারধর করলো।   চোর তবুও কথা বলল না।   ডাকাতদল আরও বেশি মারলো।   মার খেয়ে চোর আধমরা হয়ে গেলো।
মারের চোটে চোর কথা বলল, ভাই আমি জমিদার নই।   আমি চোর।   তোমাদের ভয়ে ওখানে লুকিয়ে ছিলাম।   সোনাদানা যা কিছু পাও আমাকেও ভাগ দিও।
ততক্ষণে পূবের আকাশে সূর্য লাল রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে।   সকাল হয় হয়।   ডাকাত দল ভাবলো, এখন কিছু নিলে ধরা পড়তে হবে।   তাই খালি হাতে ফিরে গেলো।   ওদিকে চোরও কিছু নিতে পারলো না।   সবাই সবিতার বুদ্ধির তারিফ করলো।   তাঁর কারণেই জমিদার বাড়ির ধন-দৌলত রক্ষা পেলো।   জমিদার বাবুও সব শুনে সবিতার প্রশংসা করলেন।
Next