Previous
পেনসিলে আঁকা এক বিড়াল ছানা ছিলো।
একদিন শুভ নামের এক বন্ধু তাকে খুব সুন্দর করে রং করলো।   রং করার পর বিড়ালছানা আয়নায় নিজেকে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেলো।   সে মনে মনে ভাবলো, আমি এত সুন্দর দেখতে ! তাহলে নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বিড়ালছানা।
একদিন এক প্রজাপতি বিড়ালছানাকে বলল, ‘‘আমাকে ফুল বাগানের পথটা দেখিয়ে দাও না ভাই।”   বিড়ালছানাটি বলল, ‘‘রোদে গেলে আমার রং নষ্ট হয়ে যাবে, আমি পারবো না।”   বিড়ালছানার কথায় প্রজাপতি মনে খুব কষ্ট পেলো।
আর একদিন বিড়ালছানাটি নদীর ধারে হাঁটছিলো।   সেই নদীর তীরে ছিলো অনেক কাশফুল।   সাদা সাদা কাশফুলেরা বিড়ালছানাটিকে বলল, ‘‘বিড়ালছানা, কেমন আছো?” বিড়ালছানাটি কাশফুলের কথার কোনো উত্তর দিলো না।   মুখ ফিরিয়ে নিলো।   বিড়ালছানার ব্যবহারে কাশফুলেরা মনে খুব দুঃখ পেলো।
এমনি করে কিছুদিন গেলো।   একদিন বিড়ালছানাটি ভাবলো, সে নিশ্চয়ই আগের চেয়ে আরো অনেক সুন্দর হয়েছে।   নিজের সুন্দর চেহারা দেখার জন্য সে অস্থির হয়ে গেলো।   কিন্তু অনেক খুঁজেও সে কোথাও আয়না পেলো না।   শেষমেষ পানিতে নিজের চেহারা দেখার জন্য সে নদীর ধারে গেলো।   টলটলে পানিতে নিজের চেহারা দেখে বিড়ালছানা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো।   এমন সময় হঠাৎ করেই খুব জোরে বাতাস বইতে লাগলো।   আর বাতাসের ধাক্কায় নদীর জলে পড়ে গেলো সুন্দর বিড়ালছানাটি।   অমনি তার সব রং ধুয়ে গেলো নদীর জলে।   সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এলো তার আগের চেহারা।
বিড়ালছানার চেহারা দেখে প্রজাপতি ও কাশফুলের খুব দয়া হলো।   তারা তাকে বলল, ‘‘বিড়ালছানা মন খারাপ করো না।   তোমার নিজের যা আছে সেটাই সুন্দর।   পরের দেয়া জিনিস নিয়ে বড়াই করা ঠিক নয়।”   প্রজাপতি ও কাশফুলের কথা শুনে বিড়ালছানা তার ভুল বুঝতে পারলো।   সে তার ব্যবহারের জন্য প্রজাপতি ও কাশফুলের কাছে ক্ষমা চাইলো।   এরপর থেকে বিড়ালছানা, প্রজাপতি ও কাশফুল বন্ধু হয়ে গেলো।
Next