Previous
এক গাঁয়ের এক চাষী। সেই চাষীর এক ছেলে। তার নাম রতন। রতন কথার রাজা। কথায় কথায় ছড়া বাঁধতে পারে। কিন্তু সে কোন কাজ করে না। তাই চাষী ছেলের ওপর মহা বিরক্ত। তার আশা ছিলো, ছেলে চাষবাস করবে। মাঠে যাবে, ফসল ফলাবে। তা তো নয় খালি কথায় কথায় ছড়া কাটা। চাষী ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বলে, তুমি যে দিন রোজগার করতে শিখবে সে দিন বাড়িতে ফিরে আসবে।
রতন ঠিক করে, ভিনদেশে চলে যাবে। তাই সে নদীর পথ ধরে হাঁটতে থাকে। যেতে যেতে দেখে বিরাট এক হাতি পথের মাঝখানে মরার মত ঘুমিয়ে আছে। হাতির কানের ওপর বসে আছে এক পেঁচা। রতন খুব মজা পায়। মনে মনে বলে, আহা কি মজা, কি খাসা, হাতির মাথায় পাখির বাসা।
রতন আবার হাঁটতে থাকে। যেতে যেতে তার চোখ পড়ে ঘাসের ওপর। দেখে, ঘাসের আগায় ফোঁটা ফোঁটা শিশির কণা পড়ে আছে। রতন মনে মনে বলে, আহা, এ কি অবাক কথা, জলে ভরা ঘাসের মাথা।
রতন এবার নদীর চরে আসে। দেখে, একটি গরু সাঁতরে নদী পার হচ্ছে। এমন সময় একটি পুঁটি মাছ জল থেকে উঠে গরুর পিঠে লাফাতে থাকে। তখন আকাশে উড়ছে এক চিল। ছোঁ মেরে সে পুঁটি মাছটিকে নিয়ে বসে একটি গাছের ডালে। রতন তখন ছড়া বানিয়ে ফেলে, চার পায়ার উপরে নিপায়া নাচে দু’পায়া তারে নিল গাছে।
রতন হাঁটতে হাঁটতে আরো নানা রকম জিনিস দেখে। দেখতে দেখতে রতন আসে এক রাজার দেশে। রাজার এক মেয়ে, নাম নবিরন। তার খুব বুদ্ধি। তাকে কেউ কথায় হারাতে পারে না। রাজা ঘোষণা দেয়, যদি কেউ তার মেয়েকে কথায় হারতে পারে, তাকে অনেক উপহার দেবে। সেজন্য রাজবাড়িতে প্রতিদিনই অনেক লোকের ভিড় হয়। রতন ভাবে, সে রাজার মেয়েকে হারাতে পারবে। তাই সেও রাজবাড়িতে হাজির হয়।
রতন গিয়ে একটি ঘরে বসে। ঘরে অনেক জিনিসের মধ্যে একটি শিকা আছে। সেই শিকায় ইঁদুরের বাসা। রতন দেখে, শিকার নিচে একটি বিড়াল ওৎ পেতে বসে আছে। ইঁদুরটা ধীরে ধীরে শিকার দড়িটা কেটে দেয়। হাঁড়িসহ শিকাটি পড়ে বিড়ালের মাথায়। ব্যথা পেয়ে বিড়াল দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এমন সময় রাজার মেয়ে ঘরে ঢোকে। রতন বলে, রাজকন্যা আমি তোমকে কিছু কথা বলব। তোমাকে তার মানে বুঝিয়ে দিতে হবে। সে রতনের কথায় রাজি হয়। রতন ছড়া কেটে বলে, হাতির মাথায় পাখির বাসা জলে ভরা ঘাসের মাথা। চার পায়ার উপর নিপায়া নাচে দু’পায়া তারে নিল গাছে। বল তো কন্যা নবিরন, ইঁদুর যে বিড়াল মারে এইটার কি কারণ?
রতনের ছড়া শুনে রাজার মেয়ে ভীষণ ভাবনায় পড়ে। এমন কথা তো সে কখনও শোনেনি। অনেক ভেবেও কোন কূল-কিনারা না পেয়ে সে হার মানে। তখন রতন তাকে সব বুঝিয়ে বলে। রাজার মেয়ে খুব খুশি হয়। রাজা রতনকে অনেক উপহার দেয়। মনের খুশিতে রতন বাড়ির পথে রওনা হয়।
Next