Previous
অপুদের স্কুলে যাবার পথটি কাদা পানিতে ভরা। আসা যাওয়ার সেকি কষ্ট। বর্ষাকালে তো কথাই নেই।
স্কুল শেষে অপু সবাইকে ডেকে কথা বলে। এ নিয়ে কী করা যায়। সকলে মিলে উপায় বের করে।
ঐ পাড়ার হাজি দাদুর ইটের ভাটা আছে। তাঁর কাছ থেকে আমরা ভাঙা ইটগুলো চেয়ে আনতে পারি।
স্কুল শেষে সবাই দু’টো করে ইট নিয়ে এসে রাস্তায় বিছিয়ে দেব। এভাবে দু’তিন দিন কাজ করলে হয়ে যাবে। একটু দূরে দূরে দু’টো করে ইট দিলে মোটামুটি চলা যাবে।
সবাই একমত হয়। যেই কথা সেই কাজ। পরদিন সবাই গেল হাজি দাদুর কাছে। দাদু সব কথা শুনলেন। তারপর চুপ করে গেলেন। নীরবে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
এরপর কিছু না বলে ঘরের ভেতরে গেলেন।
কিছু বিস্কুট এনে তাদের খেতে দিলেন। কিন্তু দাদু কী বলবেন তারা ভেবে পায় না।
শেষে দাদু বললেন, তোমরা কি শুধু ইট নেবে? আমাকে তোমাদের সাথে কাজে নেবে না- দাদুভাইরা? ঠিক আছে, কাল তো তোমাদের স্কুল বন্ধ। সবাই সকাল বেলায় চলে এসো।
পরদিন এসে সবাই অবাক! গ্রামের অনেক লোক জড়ো হয়েছেন।
পাশের আরও দু'টো ইট ভাটার মালিকও এসেছেন। দাদু তাদের দেখে বললেন, আমরাও তোমাদের সাথে আছি।
শুরু হল হাতে হাতে ইট বিছানোর কাজ। এত লোক! দুপুরের আগেই কাজ শেষ।
খবর পেয়ে চেয়ারম্যান সাহেব ছুটে এলেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন।
বললেন, তোমরা ছোটরাই আজ আমাদের পথ দেখালে।
অপুর মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। খুশিতে তার চোখে পানি আসে। অপু দাদুকে জড়িয়ে ধরে। দাদু তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
Next