Previous
বাংলা বছরে বারো মাস হয়।  সেগুলো হলো: বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র।  এই বারো মাসে আবার ৬টি ঋতু হয়।  বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস মিলে হয় গ্রীষ্মকাল।  আষাঢ় ও শ্রাবণ মিলে হয় বর্ষা ঋতু।  ভাদ্র ও আশ্বিন মিলে হয় শরৎ ঋতু।  কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মিলে হয় হেমন্ত ঋতু।  পৌষ ও মাঘ মিলে হয় শীত ঋতু এবং ফাল্গুন ও চৈত্র মাস মিলে হয় বসন্ত ঋতু।
গ্রীষ্ম: বাংলা বছর বৈশাখ মাস থেকে শুরু হয়।  বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস নিয়ে গ্রীষ্মকাল।  এই সময়ে খুব গরম পড়ে।  খাল বিল শুকিয়ে ফেটে যায়।  কখনো কখনো প্রচণ্ড ঝড় হয়।  তখন জানমালের ক্ষতি হয়।
বর্ষা: আষাঢ় আর শ্রাবণ মাস নিয়ে বর্ষা ঋতু।  আকাশে তখন ঘন কালো মেঘের আনাগোনা।  যখন তখন ঝম ঝম করে বৃষ্টি নামে।  খালবিল পানিতে থই থই করে।  ব্যাঙ ডাকে ঘ্যাঙর ঘ্যাং।  কদম আর কেয়ার গন্ধে বাতাস ভরপুর থাকে।
শরৎ: ভাদ্র আর আশ্বিন মাস মিলে হয় শরৎ ঋতু।  তখন নতুন ধানের শিষ বাতাসে মাথা দোলায়।  এ সময় আকাশের রং হয়ে ওঠে গাঢ় নীল।  তুলোর মতো হালকা সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়।  নদীর ধারে কাশফুলের দোলা লাগে।  বাতাসে শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায়।
হেমন্ত: কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাস মিলে হেমন্ত ঋতু।  তখন মাঠে মাঠে ধান পাকে।  ঘরে ঘরে নতুন চালের পিঠে পায়েস হয়।  এই উৎসবকে বলে নবান্ন।  এ সময় একটু একটু ঠাণ্ডা পড়তে থাকে।  সকালে ঘাসের ডগায় হালকা শিশির জমে।
শীত: পৌষ আর মাঘ মাস নিয়ে শীত ঋতু।  এ সময় পিঠাপুলি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।  চারপাশ ঢাকা থাকে কুয়াশায়।  সকালে গাছপালা আর ঘাসের ডগায় বেশ শিশির জমে।  শীতের শেষ দিকে শুরু হয় গাছ থেকে পাতা ঝরা।
বসন্ত: ফাল্গুন আর চৈত্র মাস মিলে বসন্ত ঋতু।  এ সময় প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে।  নানান ফুলে ভরা থাকে গাছ।  শাখায় শাখায় পাখি গান করে।  কোকিলের গানের সুরে মন ভরে যায়।  বসন্তকে বলা হয় ঋতুর রাজা।
Next