Previous
আজ স্কুল থেকে ফেরার পথে একটি জাম গাছ দেখে মনি ও সাঈদের মন খারাপ হয়ে যায়। তাদের বাড়ির জাম গাছটি এখন আর নেই।
তাদের দাদু বাড়িতে অনেক গাছ লাগিয়েছিলেন। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আরো কত রকমের ফলের গাছ। পুকুরপাড়ে নারিকেল আর সুপারি গাছের সারি। দাদুর লাগানো গাছগাছালিতে ছায়াঘেরা তাদের বাড়িটি দেখতে ছবির মতন।
কত বড় ছিল জাম গাছটি। কত মিষ্টি ছিল সে জাম। কিন্তু ঐ গাছটি কেটে ফেলতে হল মায়ের অসুখের সময়।
মায়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার ছিল। শেষে বাবা বাধ্য হয়েই গাছটি বেচে দেন।
গাছটি যখন কেটে নেয় তখন বাড়ির সবার মন খারাপ। কিন্তু করার কিছুই ছিল না। গাছ বেচার টাকায় মায়ের চিকিৎসা হল। মা সুস্থ হলেন। সবাই খুশি হল।
সুস্থ হয়ে মা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে এলেন। হঠাৎ জানতে পারলেন, তার চিকিৎসার জন্য জাম গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।
এ কথা জানার পর মায়ের চোখে পানি এল। মায়ের চোখে পানি দেখে মনি আর সাঈদেরও মন খারাপ হয়ে গেল।
বাবা এসে সবাইকে সান্ত্বনা দিলেন। মানুষ তার প্রয়োজনেই গাছ লাগায়। আবার প্রয়োজনেই কাটে। তবে একটি গাছ কাটলে কমপক্ষে দুইটি গাছ লাগানোর দরকার।
পরদিন মনি আর সাঈদ মিলে দুইটি জাম গাছের চারা লাগাল। তাদের মনে স্বপ্ন, দাদুর লাগানো গাছের মতই তাদের গাছগুলো বড় হবে। অনেক জাম ধরবে।
পনের-বিশ দিন পরের ঘটনা। স্কুল থেকে ফিরে তারা দেখে একটি চারাগাছের পাতা লাল হয়ে গাছটি মরে গেছে। আরেকটি চারার আগাটি কে যেন ভেঙে ফেলেছে।
এটা দেখে সাঈদ বাবাকে ডাকতে থাকে। বাবা ছুটে আসেন। চারাগাছ দেখে বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হয় না। গাছের যত্ন নিতে হয়। গাছে সার দিতে হয়। প্রতিদিন পানি দিতে হয়।
পরদিন তারা আবার দুটো চারা লাগায়। নিয়মিত যত্ন নেয়। পানি দেয়। কিছু দিন যেতে না যেতেই দেখা গেল চারাগাছগুলো বেশ বড় হয়েছে। কচি কচি নতুন পাতা গজিয়েছে। মনি আর সাঈদ খুব খুশি।
Next