Previous
জমিলা আর তার স্বামী দু’জনেই চাকরি করে। তাদের ছোট একটি মেয়ে। তার নাম জবা। এক ছুটিতে ওরা ঠিক করে জবার নানার বাড়ি বেড়াতে যাবে।
জবার নানার বাড়ি যেতে হলে নদীপথে যেতে হয়। তাই ওরা একটি ছই-নৌকা ভাড়া করে। নৌকায় সব মালামাল তুলে যাত্রা করে। নৌকায় উঠে ছোট জবা খুব খুশি। এদিকে বাবার বাড়ি যাওয়ার আনন্দে জামিলা অনেক গয়না পরে। মাঝি মাঝ নদী দিয়ে নৌকা বেয়ে যায়। ভারি আনন্দ হয় সবার।
এমন সময় জবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ও বমি করে দেয়। জবার বমি ফেলতে জমিলা নৌকার এক পাশে যায়। তখন দেখতে পায় নৌকার পাটাতনের নিচে দু’জন ডাকাত বসে আছে। সে ডাকাতদের কিছু বুঝতে দেয় না। জবার বাবাকেও কিছু বলে না। জমিলা বুঝতে পারে ডাকাতের সাথে মাঝির যোগ আছে।
জমিলা স্বামীর পকেট থেকে কাগজ-কলম নেয়। তাতে লেখে পাটাতনের নিচে ডাকাত আছে। হৈ চৈ কর না। সামনের বাজারে জবার জন্য খাবার কিনতে হবে। জমিলা স্বামীকে বলে, নৌকা থামাতে বল মাঝিকে।
নৌকা বাজারের কাছে আসতেই জবার বাবা মাঝিকে নৌকা ভিড়াতে বলে। মাঝি ভুরু কুঁচকে বলে, এখানে নৌকা থামাবো কেন? সামনেই তো তোমাদের বাড়ি। একবারেই নেমে যেও। এখন আর নৌকা থামাবো না।
জামিলা মাঝির চালাকি বুুঝতে পেরে জবাকে জোরে চিমটি কাটে। অমনি জবা চিৎকার করে কেঁদে উঠে। জবার কান্না আর থামতে চায় না। জবার বাবা মাঝিকে বকা দিয়ে বলে, আমার মেয়েটার ক্ষিদে পেয়েছে। নৌকা থামাও বলছি। তখন মাঝি নৌকা ভিড়াতে বাধ্য হয়। জবার বাবা খাবার কেনার কথা বলে বাজারে ঢোকে।
বাজারে গিয়ে জবার বাবা পুলিশকে সব জানায়। পুলিশ এসে ডাকাত আর মাঝিকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। জবার বাবা আরেকটি ছই-নৌকা ভাড়া করে বাড়ির দিকে রওনা হয়। এভাবে জমিলার বুদ্ধিতে ওরা ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা পায়।
Next