Previous
এক দেশে বাস করে এক কাক। বর্ষাকালে সে দেশে সহজে খাবার পাওয়া যায় না। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। এ সময়ে কাকের খুব কষ্ট হয়। তাই সে বর্ষাকালে ভিন দেশে যাবার কথা ভাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। একদিন সে উড়াল দেয় ভিন দেশে।
ভিন দেশে এসে কাক বন্ধু খুঁজতে থাকে। এক সময় এক পানকৌড়ির সাথে দেখা হয়। কাক ভাবে. একেই সে বন্ধু বানাবে। এর সাথে বন্ধুত্ব হলে তার খাবারের অভাব হবে না।
কাক পানকৌড়িকে বলে, তুমি কি আমার বন্ধু হবে? কাকের প্রস্তাবে পানকৌড়ি তো খুব খুশি। অচিন দেশের এক পাখি তার বন্ধু হবে এটা সে কখনও ভাবেনি। পানকৌড়ি কাকের বন্ধু হতে রাজি হয়।
পানকৌড়ি কাককে বেশ আদর যত্ন করে। সে প্রতিদিন নদীতে যায়। ডুব দিয়ে দিয়ে মাছ ধরে। ঠোঁটে করে সেই মাছ এনে কাককে দেয়। এভাবে কাক বেশ আরামেই দিন কাটাতে থাকে।
এক সময় বর্ষা শেষ হয়। কাক ভাবে, তার নিজের দেশে ফিরে যাবে। এখন তো সেখানে আর খাবারের অভাব নেই। তাই সে পানকৌড়িকে বলে, বন্ধু এবার তো বিদায় নিতে হয়। পানকৌড়ি বলে, আর ক’টা দিন থেকে যাও বন্ধু।
কাক আরও কিছুদিন পানকৌড়ির দেশে থাকে। পানকৌড়ি এবার ভাবে, কাক তাকে তার দেশে নিয়ে যাবে। কারণ, পানকৌড়ির দেশে এখন শীতকাল। নদী-নালা, খাল-বিল সব শুকিয়ে যাচ্ছে। খাবারের খুব অভাব হবে।
কাকও দেখে পানকৌড়ি আর আগের মত খাবার আনতে পারে না। তার খুব কষ্ট হয়। সে ভাবে কি করা যায়। পানকৌড়ি তার জন্য এতটা করলো। তারও উচিত পানকৌড়ির কষ্টের সময় সাহায্য করা। একদিন কাক পানকৌড়িকে বলে, বন্ধু চলো এবার আমার দেশে যাই। ওখানে এখন খাবারের অভাব নেই। দুই বন্ধু মিলে ভালই থাকবো।
পানকৌড়ি কাকের প্রস্তাবে মহা খুশি। সে তো বন্ধুর কাছে সেটাই আশা করেছিলো। মনে মনে বলে, কাক তার সত্যিকার বন্ধু। সত্যিকার বন্ধু না হলে কেউ দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায় না। পানকৌড়ি বন্ধুর প্রস্তাবে রাজি হয়। এইভাবে এক মৌসুমে কাক যায় পানকৌড়ির দেশে। আর এক মৌসুমে পানকৌড়ি আসে কাকের দেশে। ওরা একজন আর একজনের জন্য খাবার জোগাড় করে। মিলেমিশে খাবার ভাগ করে খায়। ওরা একে অন্যের সাহায্যে সুখেই দিন কাটাতে থাকে।
Next