Previous
এক গাঁয়ের একটা ঝাঁশঝাড়। সেই বাঁশঝাড়ে বাস করে এক বক ও তার দুই ছানা। বাঁশঝাড়ের নিচে থাকে দু’টো কোলা ব্যাঙ।
বাঁশঝাড়ের মালিকের এক ছেলে। তার নাম কমল। কমলের মা নেই। তার জন্মের পরই মা মারা গেছে। তাই সে কখনও মায়ের আদর পায়নি। বাবার আদর যত্নে সে বড় হচ্ছে। বাঁশতলায় ব্যাঙ দু’টো তার খুব প্রিয়। কমলের ইচ্ছে ব্যাঙ দু’টোর বিয়ে দেবে। আর সেই বিয়েতে বন্ধুদের দাওয়াত দেবে। বাঁশঝাড়ের বকের ছানা দু’টোর মাংস দিয়ে চমৎকার ভোজ হবে।
একদিন কমল উঠানে এসে দাঁড়ায়। হঠাৎ তার চোখ পড়ে বাঁশঝাড়ের দিকে। দেখে, মা বকটি পরম আদরে মুখে করে বাচ্চাদের খাইয়ে দিচ্ছে। এটা দেখে কমলের খুব ভাল লাগে।
তারপর থেকে প্রতিদিনই কমল বক ছানাদের খাবার খাওয়া দেখে। আর তার মায়ের কথা মনে করার চেষ্টা করে। সে ভাবে, তার মা থাকলে তাকেও নিজ হাতে খাবার খাইয়ে দিত। এমনি করে আদর করত। বেড়াতে নিয়ে যেত। কি মজাই না হত!
একদিন রাতে খুব ঝড় হয়। ঝড়ে বাঁশঝাড় ভেঙ্গে পড়ে। সেই সাথে বকের বাসাটিও ভেঙ্গে যায়। কমল বকের ছানা দু’টোকে বাড়িতে নিয়ে আসে। ছোট তুলতুলে ছানাদের দেখে তার খুব মায়া হয়। এদের মাংস দিয়ে ব্যাঙ বিয়ের ভোজ করতে চেয়েছিল বলে তার খুব দুঃখ হয়।
সে ঠিক করে, বকের ছানা দু’টোকে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেবে। তা না হলে মা বকটা যে খুব কাঁদবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সে ছানা দু’টো বাঁশঝাড়ে রেখে আসে।
কয়েকদিন পরের কথা। কমল বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে হাঁটছে। এমনসময় একটা সাপ কমলকে ছোবল দিতে ফণা তোলে। কমল ভীষণ ভয় পায়।
হঠাৎ বাঁশঝাড়েরর মাথা থেকে সেই মা বকটি উড়ে আসে। লম্বা পা দিয়ে সাপটিকে তুলে, দূরে ছূঁড়ে দেয়। কমল বিপদ থেকে বেঁচে যায়। কমল বুঝতে পারে, ও বক ছানাদের জীবন বাঁচিয়েছিল। তাই মা বকটি তার জীবন বাঁচাল।
Next